শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ডায়াবেটিস-হরমোন বিশেষজ্ঞদের সম্মেল


স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০২ নভেম্বর ২০১৯: হরমোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলের বল রুমে শুক্রবার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সাধারণ সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশে হরমোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রধানতম সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন (অন্তঃস্রাব) সোসাইটি’ (বিইএস)।
সারাদেশের সব ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ৫০০ এর বেশি চিকিৎসক এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভারতসহ দেশের বাইরের ২০ জন এবং দেশের ৪২ জন ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ গবেষক তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। তারা দেশে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা-ব্যবস্থাপনার সমন্বয় স্থাপনের চেষ্টা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গবেষণার সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণালব্ধ ফলগুলোর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের চিকিৎসকদের আধুনিকতম চিকিৎসা দেওয়ার পথ সুগম করবে। তরুণ চিকিৎসকদের মেধা ও মননসম্পন্ন চিকিৎসা সেবায় ব্রতী হতে বিশ্বব্যাপী এ ধরনের সম্মেলনগুলোকেই সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক ডায়াবেটিসের রোগী, থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ, দৈহিক স্থূলতায় ভোগা লোকজন, হাড়ক্ষয় ও রজঃনিবৃত নারীদের সুচিকিৎসা, সর্বোপরি অসংক্রামক রোগসমূহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে এ সম্মেলনলব্ধ জ্ঞান ব্যাপকভাবে কাজে লাগতে পারে বলে সম্মেলনে জানানো হয়। তবে এবারের সম্মেলনে থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। কারণ বাংলাদেশে দিন দিন থাইরয়েডের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ডা. ফারুক পাঠানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ডা. আন্দ্রে লেখ্রো। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ডা. একে আজাদ খান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেল্থ সায়েন্সের ইমেরিটাস প্রফেসর ডা. হাজেরা মাহতাব, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. জাফর আহমেদ লতিফ, বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটির মহাসচিব প্রফেসর ডা. হাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি প্রফেসর ডা. এসএম আশরাফুজ্জামান, সহ-সভাপতি প্রফেসর ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহজাদা সেলিম, প্রফেসর ডা. দিনা শ্রেষ্ঠা প্রমুখ।

শুঁটকি মাছের পুষ্টিগুণ




স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০২ নভেম্বর ২০১৯: রুচিবর্ধক খাবারগুলোর মধ্যে শুঁটকি মাছ অন্যতম। কাঁচা মাছে লবণ মাখিয়ে কড়া রোদে শুকানো হয় (বড় ও অধিকাংশ মাছের বর্জ্য অংশগুলো ফেলে দেওয়া হয়)। তাই মাছের দেহের পানি বা তরল অংশ শুকিয়ে যায়। ফলে এই মাছে কোনো জীবাণু জন্মাতে পারে না। তবে শুঁটকি মাছ কৌটায় বন্দী বা স্যাঁতসেঁতে স্থানে রাখলে ফাঙাশ পড়ে যায়। প্রচুর পরিমাণে রৌদ্রে শুকানো হয় এই মাছ। তাই এতে ভিটামিন ‘ডি’-এর (সূর্যের আলোতে থাকে ভিটামিন ‘ডি’) পরিমাণ রয়েছে পর্যাপ্ত অনুপাতে। ভিটামিন ‘ডি’ হাড়, দাঁত, নখের গঠন মজবুত করার জন্য যথেষ্ট জরুরি।
শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাবে ছোটদের রিকেটস নামের হাড়ের অসুখ হয়। রিকেটস হলে শিশুদের লম্বা হাড়ের গঠনে দুর্বলতা ও সমস্যা থাকে। হাড় হয়ে যায় ভঙ্গুর। এই একই সমস্যা বড়দেরও হয়। বড়দের ক্ষেত্রে একে আমরা বলি অস্টিওম্যালাসিয়া। এই অসুখগুলো দূর করতে শুঁটকি মাছের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের জন্য উপকারী অনেক রকম খনিজ লবণ রয়েছে এই মাছে। খনিজ লবণ আমাদের রক্তশূন্যতা দূর করে, দাঁতের মাড়িকে করে দৃঢ়।
এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার আমিষ বা প্রোটিন ও কোলেস্টেরল। যাঁরা কঠোর দৈহিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের জন্য এটি যোগ্য খাবার। আর যাঁরা বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত মোটা, রক্তে নিপিড বা কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, তাঁরা শুঁটকি মাছ খাবেন না।
বাড়ন্ত শিশুদের জন্য ভীষণ উপকারী। তবে সবাই হজম করতে পারে না। আপনার শিশুর হজমশক্তি বুঝে, প্রথমে অল্প করে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন। সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত শুঁটকি মাছ খায় এমন ব্যক্তিদের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর, যক্ষ্মা এই অসুখগুলো সহজে হয় না। তবে অতিরিক্ত ধূমপান বা যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য যক্ষ্মার জন্য সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
এতে আয়রন, আয়োডিনের মাত্রা বেশি থাকার জন্য দেহে রক্ত বাড়ায়, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে শক্তিশালী, শরীরের হরমোনজনিত সমস্যাকে রাখে দূরে।
শুঁটকি মাছ দেহে লবণের ঘাটতিও পূরণ করে। তাই দূর হয় দুর্বলতা। কিন্তু এই মাছ উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ার জন্য হূদেরাগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য বর্জনীয়।

উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্য টাইপ-২ ডাইবেটিস থেকে মুক্তি দিতে পারে


স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০২ নভেম্বর ২০১৯: গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদ ভিত্তিক খাবারের মাধ্যমে টাইপ-২ ডাইবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস এবং টাইপ-২ ডাইবেটিসের মধ্যে যোগসূত্রটি আরও বেশি উপকারী হয় যখন কেবলমাত্র উদ্ভিদভিত্তিক খাবার যেমন, ফল-মুল, শাক-সবজি, লেবু এবং বাদাম জাতীয় খাবার আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যুক্ত করবেন, জ্যামা ইন্টারনাল মেডিসিনের এক সমীক্ষায় এ তথ্যটি প্রকাশিত হয়।
হার্ভার্ড টি,এইচ এর পুষ্টি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কিউ সান বলেছেন, আমরা গবেষণায় দেখেছি উদ্ভিদ ভিত্তিক খাবার খাওয়ার ফলে ডাইবেটিসের ঝুকি গড়ে ২৩% হ্রাস পায়। আমরা আরও দেখেছি উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্য গ্রহণ করে যারা নিজেদের স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলেছেন তারা। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় তাজা ফল, শাক-সবজি, বাদাম এবং লেবু খাওয়ার উপর জোর দেয়া হয় বেশি।
তিনি আরও বলেন, এই খাদ্যাভ্যাসের কারণে টাইপ-২ ডাইবেটিস ৩০% হারে হ্রাস পায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০কোটির বেশি মানুষ অথবা আরও একটু বিশ্লেষণ করলে বলা যায় প্রতি ১০জনে ১জন টাইপ-২ ডাইবেটিসে আক্রান্ত। এর একমাত্র কারণ খুবই কম হারে উদ্ভিদ ভিত্তিক খাবার গ্রহণ করা।
বৈশ্বিকভাবেও ডাইবেটিসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮০ সালে পুরো বিশ্বে ১০৮কোটি মানুষ ডাইবেটিস এর স্বীকার হলেও এর মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪২২ কোটিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আমরা বেশি বেশি তেল যুক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকছি। যে কারণে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বেড়েছে।
তবে স্বাস্থ্য সচেতনরা বলছেন, আমাদের সুস্থ সুন্দরভাবে বেচে থাকতে হলে প্রতিদিনের খাদ্য মেন্যুতে তেল যুক্ত খাবার সরিয়ে বেশি বেশি উদ্ভিদ ভিত্তিক খাবার যুক্ত করতে হবে। 

ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অনুশীলন দরকার: ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক



স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০২ নভেম্বর ২০১৯: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আয়োজনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক ফোরামের দেশগুলোর সমন্বয়ে দিল্লীতে এসডিজি বিষয়ক সম্মেলনে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি একাধিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আয়োজনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক ফোরামের দেশগুলো নিয়ে এসডিজি বিষয়ক সম্মেলন ভারতের রাজধানী দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ নভেম্বর থেকে সম্মেলন শুরু হয়েছে এবং ১ লা নভেম্বর শেষ হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি।
সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি বলেন, “তামাক এবং তামাকের ব্যবহারের দ্বারা কান্সার ও ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাচ্ছে। তামাকের ব্যবহার কমিয়ে ব্লাড পেশার, ক্যান্সারসহ প্রভৃতি রোগ কমিয়ে নেওয়া, খাদ্য ভেজাল রোধে করণীয়, বিশেষ করে প্যাকেটের গায়ে সুগার ও লবণের পরিমাণ উল্লেখ করে সেগুলো সরবারাহ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নীত করণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

হাকীমপুরীসহ ২২ প্রতিষ্ঠানের জর্দা-গুলে বিষাক্ত কেমিক্যাল



স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০২ নভেম্বর ২০১৯: বিষাক্ত কেমিক্যাল পাওয়া গেছে ২২ জর্দা, খয়ের ও গুলে। এ গুলোতে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিষাক্ত হেভি কেমিক্যাল লেড, ক্যাডামিয়াম ও ক্রোমিয়াম পেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এগুলো দীর্ঘদিন খাওয়ার কারণে দাঁতের মাড়ি ও লিভার ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ হয়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে বিএফএসএ’র এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান, সদস্য মাহাবুব কবীর, মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ, অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীমসহ সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, হাকীমপুরী, শাহজাদী ও রতন জর্দাসহ দেশের ২২টি জর্দা গুল ও খয়েরে বিষাক্ত হেভি ক্যামিকেল লেড, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ প্রতিষ্ঠানের জর্দা, ৬ প্রতিষ্ঠানের খয়ের ও তিন প্রতিষ্ঠানের গুলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যার সবগুলোতে হেভি ক্যামিকেল লেড, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
নমুনা পরীক্ষা করা পণ্য গুলোর মধ্যে রয়েছে, গিলা খয়ের, তীর মার্কা খয়ের, মালাই খয়ের, অন্তরা খয়ের, কালো পাথর বাল্ক খয়ের, সাদা বাল্ক খয়ের, ইগল গুল, মোস্তফা গুল, শাহজাদা গুল, রতন জর্দা, হাকীমপুরী জর্দা, গুরুদেব জর্দা, শাহজাদি জর্দা (নির্মলের), মহিউদ্দিন জর্দা, ঢাকা জর্দা, মকিমপুর জর্দা, শাহী হীরা জর্দা, জাফরানী জর্দা, শাহজাদী জর্দা (আলম), বউ শাহজাদী জর্দা এবং চাঁদপুরী জর্দা।
এছাড়াও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, যারা পানের সঙ্গে খয়ের খান তাদের জন্য রয়েছে আরও বড় দুঃসংবাদ। কারণ এক ধরনের গাছের বাকল থেকে এই পণ্যটি তৈরির কথা থাকলেও সেটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্যামিকেল রং দিয়ে তৈরি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে ফার্নিচারের বার্ণিশে ব্যবহারের জন্য যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় সেগুলো দিয়েই সরাসরি খয়ের তৈরি হচ্ছে। যার মধ্যে ক্ষতিকর ভারী ধাতু লেড, ক্রোমিয়াম ও ক্যাডমিয়ামের মতো পদার্থ পাওয়া গেছে।

স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর



স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০২ নভেম্বর ২০১৯: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের জনগণকে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মানবিক কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছায় রক্তদানকে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা কাজ করছি। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে হবে যাতে মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদানে সচেতন ও আগ্রহী হয়।’
শনিবার (২ নভেম্বর) জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার অন্ধত্ব প্রতিরোধে এবং চক্ষুরোগ চিকিৎসার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমরা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা ও গোপালগঞ্জে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণ করে ছানিসহ চোখের বিভিন্ন রোগের অপারেশনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা করছি।’
‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ এতে করে স্বেচ্ছায় অঙ্গদান ও মৃত্যুর পর চক্ষুদানে আর জটিলতা থাকবে না। মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনানুগ কোনো উত্তরাধিকারের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে অঙ্গ নেওয়া যাবে।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ ও সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির উদ্যোগে আগামীকাল ‘জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস ২০১৯’ দেশব্যাপী পালন করা হচ্ছে জেনে প্রধানমন্ত্রী এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিরাপদ রক্তের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ১৯৭২ সালে বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭৫ সালে অন্ধত্ব সমস্যা সমাধানের জন্য ‘অন্ধত্ব মোচন অর্ডিন্যান্স’ জারি করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস ২০১৯’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

বায়ুদূষণের শিকার দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ লাখ মাস্ক



স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০২ নভেম্বর ২০১৯: ভয়াবহ দূষণের কারণে ভারতের রাজধানীতে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনা করে
শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় পঞ্চাশ লাখ বিশেষ মাস্ক বিতরণ করেছেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
শুক্রবার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ এই মাস্ক বিতরণের সময় দিল্লিকে গ্যাস চেম্বারের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
এর আগে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনা করে দিল্লিতে জরুরি অবস্থা জারি করেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। নয়াদিল্লি ছাড়াও পাশের আরও দুটি রাজ্যের প্রধান শহরকেও এ নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া বায়ুদূষণের মাত্রার চেয়ে প্রায় বিশগুন বেশি দূষিত হয়েছে নয়াদিল্লির বায়ু। এমন প্রেক্ষাপটে শহরের স্কুলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সকল কনস্ট্রাকশনের কাজ স্থগিত করা হয়েছে।
দিওয়ালির পর থেকে ক্রমেই বাড়ছে দিল্লির দূষণের মাত্রা, এখন তা উদ্বেগজনক অবস্থাও ছাড়িয়ে গেছে। এখন দিল্লির দূষণের মাত্রা ‘সিভিয়ার প্লাস’ বা ‘ইমার্জেন্সি’ শ্রেণিতে পড়ছে।
ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আওতাভুক্ত পরিবেশ দূষণ (প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) কর্তৃপক্ষ ১০ সদস্যের দূষণ-বিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করেছে। টাস্কফোর্সের সুপারিশে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লি-এনসিআর এলাকায় নির্মাণকাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আতশবাজি পোড়ানোর উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি আছে।
যে সংস্থাগুলো প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার করে না সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শীতকালে দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায় বাজি ফাটানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে রাজধানীর এই অবস্থার জন্য প্রতিবেশি পাঞ্জাব ও হরিয়ানাকে দুষেছেন কেজরিওয়াল। তিনি মনে করেন: প্রতিবেশি দুই রাজ্যে বছরের এ সময়ে আবর্জনা পোড়ান কৃষকরা, যার কারণে ধোঁয়ায় ভরে যায় দিল্লি। দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, প্রাতঃভ্রমণকারীদের পর্যন্ত সকালে মাস্ক পরে হাঁটতে বের হতে হচ্ছে।